মেরিন ড্রাইভ ভ্রমণের যাবতীয় খুঁটিনাটি তথ্য
লেখকঃ এডমিন, লার্নিং এন্ড ট্রাভেলিং গ্রুপ
তারিখঃ ২২ অক্টোবর, ২০২৪
আমি জানি শুধুমাত্র নতুন কিছু তথ্য পাওয়ার জন্যই আপনি এই লেখাটি পড়া শুরু করেছেন। আমি কথা দিচ্ছি পড়া শেষ করে যদি নতুন তথ্য জানতে না পারেন কমেন্টস সেকশন আপনার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি, কক্সবাজার ঘুরতে যাওয়া পর্যটকদের ৮০% ই মেরিন ড্রাইভ সম্পূর্ণ ঘুরে দেখেননি। এই লেখাটি পড়ার পর আরও একবার কক্সবাজার দর্শনে যাওয়ার জন্য আপনি মনস্থির করবেন। এই আলোচনায় থাকছে কক্সবাজার থেকে সুদীর্ঘ ৮৮ কিলোমিটার মেরিন ড্রাইভ সড়ক একদিনে কিভাবে ঘুরে দেখবেন। পাশাপাশি মেরিন ড্রাইভের কোন পয়েন্টে কি পাবেন, কি দেখবেন, কত সময় দেখবেন ইত্যাদি। আলোচনার শেষে সামগ্রিক খরচের বিবরণতো থাকছেই।
মেরিন ড্রাইভঃ
একপাশে সমুদ্র, অপর পাশে পাহাড় বিশিষ্ট কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের দৈর্ঘ্য ৮৮ কিলোমিটার। আপনারা নিশ্চয়ই অবগত আছেন যে, এটি বর্তমানে বিশ্বের দীর্ঘতম মেরিন ড্রাইভ সড়ক হিসেবে সুপরিচিত। মূলত এই সড়কটি কলাতলী সমুদ্র সৈকত থেকে টেকনাফ পর্যন্ত বিস্তৃত একটি সড়ক যেখানে প্রতিটি স্থানই আপনাকে মুগ্ধ করবে। তবে উল্লেখযোগ্য স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে হিমছড়ি বীচ, হিমছড়ি পাহাড় ও ঝর্ণা, দরিয়ানগর প্যারাস্যাইলিং পয়েন্ট, ইনানী বীচ, মিনি বান্দরবান, পাটুয়ারটেক বীচ, শামলাপুর বীচ, মেরিন ড্রাইভ জিরো পয়েন্ট এবং মেরিন ড্রাইভ সড়কের শেষ প্রান্ত (জিরোপয়েন্ট) থেকে ৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত শাহপরীর দ্বীপ। চলুন সকল ইনফরমেশন জানা যাক, কোথায় কিভাবে ঘুরবেন।
ভিডিওঃ মেরিন ড্রাইভ ভ্রমণের যাবতীয় খুঁটিনাটি
মেরিন ড্রাইভ সড়কের পটভূমিঃ
৪৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সড়কটি ২০১৭ সালের ৬ মে বাংলাদেশের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত মেরিন ড্রাইভ সড়ক হিসেবে চালু হয় যা বহু বছরের প্রতিক্ষীত একটি সড়ক। মূলত ৮৮ কিলোমিটার এই দীর্ঘ সড়কটি সমুদ্রতীর ঘেষে টেকনাফে পৌছেছে।
এই সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয় ১৯৮৯ সালে। ১৯৯৩ সালে তৎকালীন সরকার ৪৮ কি.মি. দীর্ঘ মেরিন ড্রাইভ প্রকল্প গ্রহণ করেন। তবে ২ কি.মি. সড়ক নির্মানের পর এর কাজ বন্ধ হয়ে যায় এবং সড়কটি সাগরের প্রবল স্রোতে বিলীন হয়ে যায়। পরবর্তিতে ১৯৯৫ সালে এর নির্মাণ কাজ পুনরায় শুরু হয়। তখন এর নির্মাণ কাজের দায়িত্ব দেয়া হয় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে।
দরিয়ানগর প্যারাসাইক্লিং পয়েন্টঃ
আকাশে উড়ে পাহাড়, সমুদ্র দেখার ইচ্ছে সবার মনেই কমবেশি আছে! ঠিক পাখির মতো উড়ে বেড়ানো সম্ভব প্যারাসেইলিংয়ের মাধ্যমে। কক্সবাজার শহর থেকে মাত্র ৬ কিলোমিটার দূরে দরিয়ানগর সমুদ্র সৈকতের পাশেই প্যারাসেইলিং করার চমৎকার সুযোগ রয়েছে।প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত প্যারাসেইলিংয়ের সৌন্দর্য উপভোগ করতে শতশত পর্যটক এসে ভিড় জমায় দরিয়ানগর সমুদ্র সৈকতে। প্যারাসেইলিং এ আনন্দ পেতে ব্যয় করতে হবে দেড় থেকে আড়াই হাজার টাকা।
প্যারাসেইলিং করার কয়েকটি প্যাকেজ আছে। খরচ পড়বে- ১৫০০, ২০০০ ও ২৫০০। ১৫০০ টাকার রাইডে আপনি শুধু আকাশে উড়তে পারবেন। ২০০০ টাকার রাইডে আপনি আকাশেও উড়তে পারবেন আবার নামার সময় সমুদের পানিতে হালকা পা স্পর্শও করতে পারবেন। ৫ থেকে ১২ মিনিট পর্যন্ত আপনি প্যারাসেইলিংয়ের মাধ্যমে পাখির মতো আকাশে উড়তে পারবেন। ৩০০-৫০০ ফুট পর্যন্ত উপরে ভেসে বেড়াতে পারবেন (তথ্যসূত্র জাগোনিউজ)l
মিহছড়ি পাহাড়, ঝর্ণা ও বীচঃ
কক্সবাজার থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত হিমছড়ি পর্যটনকেন্দ্র। কক্সবাজার থেকে দূরত্ব কম হওয়ায়, অধিকাংশ পর্যটকের প্রথম পছন্দ হিমছড়ি পাহাড় এবং হিমছড়ি বীচ। কক্সবাজার থেকে হিমছড়ির লোকাল গাড়ি (অটো) ভাড়া ৩০-৪০ টাকা। পরামর্শ হলো টিম বা কাপল গেলে সিএনজি বা অটো রিক্সা সারাদিনের জন্য রিজার্ভ করে নেওয়া। এতে সময়, অর্থ দুটোই বাচবে। কক্সবাজার কলাতলী থেকে টেকনাফ জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত সারাদিনের সিএনজি রিজার্ভ ভাড়া পড়বে ২৫০০-৩০০০ টাকা, অটো ভাড়া পড়বে ২০০০-২৫০০ টাকা। অটো বা সিএনজির পার্কিং খরচের বিষয় আলোচনা করে নিবেন। হিমছড়ি ঝর্ণা ও পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে জনপ্রতি ৩০ টাকা মূল্যের টিকেট ক্রয় করতে হবে। হিমছড়ির ভেতরে পেয়ে যাবেন সুউচ্চ পাহাড়, ওয়াচ টাওওয়ার, দৃষ্টিনন্দন ঝর্ণা এবং কেনাকাটা করার জন্য ছোট মার্কেট। হিমছড়ির অপর পাশেই পেয়ে যাবেন হিমছড়ি বীচ।
শতর্কতাঃ হিমছড়ি পাহাড়ে উঠার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকবেন, কেননা এই পাড়াহে উঠতে আপনাকে ৩২০ এর অধিক খাড়া সিড়ি বেয়ে উপরে উঠতে হবে। হার্টের রোগীদের না উঠাই শ্রেয়।
ইনানী বীচঃ
মেরিন ড্রাইভে যতগুলো সমুদ্র সৈকত আছে, তার মধ্যে ইনানী সমুদ্র সৈকত অন্যতম। এটি বঙ্গোপসাগরের একটি উপকূলভূমি যা বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে একটি পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়। কক্সবাজার জেলার পর্যটন সেক্টরে ইমারজিং টাইগার হচ্ছে ইনানী। কক্সবাজারের কলাতলী শহর থেকে মাত্র ২৭ কিলোমিটার দক্ষিণে ও হিমছড়ি থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ইনানী সমুদ্র সৈকত। এই সৈকতের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো ভাটার সময় এতে সেন্টমার্টিনের মত প্রবাল পাথরের দেখা মিলে। ইনানী থেকে অপূর্ব সূর্যাস্ত দেখা যায়। এছাড়া টেকনাফ গামী মেরিন ড্রাইভ রোড দিয়ে ইনানী বীচে যাবার সময় সমুদ্র তীরের সাম্পান, নারিকেল ও ঝাউবন গাছের সারি আর চারপাশের প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখে আপনার ভ্রমণের সমস্ত ক্লান্তি দূর হয়ে যাবে।
পাটুয়ারটেক সমুদ্র সৈকতঃ
মেরিন ড্রাইভ সড়ক ধরে চলতে থাকলে ইনানী বীচের পর পরই পথিমধ্যে দেখা মিলবে নান্দনিক পাটুয়ারটেক (Patuartek Sea Beach) সমুদ্র সৈকতের। পাটুয়ারটেক সমুদ্র সৈকতের প্রকৃত সৌন্দর্য উপভোগ করা যায় বর্ষায় তখন পাহাড় অরণ্যের রুপ সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয় থাকে। কক্সবাজার থেকে পাটুয়ারটেক সমুদ্র সৈকতের দূরত্ব ৩০ কিলোমিটার। নিচের ভিডিও লিংকে পাটুয়ারটেক ভ্রমণের সকল তথ্য পেয়ে যাবেন।
ভিডিওঃ পাটুয়ারটেক ভ্রমণের সকল খুঁটিনাটি
শামলাপুর সমুদ্র সৈকতঃ
কক্সবাজার থেকে ইনানী পেরিয়ে দক্ষিণে গেলে রাস্তার ডান পাশে বা পশ্চিম দিকে যে সমুদ্র সৈকত দেখা যায়, তা হলো শাপলাপুর সমুদ্র সৈকত। এটি টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের পাশে অবস্থিত। এখানে আপনি প্রকৃতির নিরবচ্ছিন্ন সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন। পর্যটকদের ভিড় নেই, শুধুমাত্র মাছ ধরার নৌকা এবং জেলেদের দেখা মিলবে। এই নির্জনতা প্রকৃতির আসল রূপটি উপভোগ করার জন্য আদর্শ স্থান। কক্সবাজার থেকে এর দূরত্ব ৪৫ কিলোমিটার। শাপলাপুর সমুদ্র সৈকতের চারপাশে হাঁটলে আপনি বিভিন্ন প্রজাতির মাছ, কচ্ছপ, কাঁকড়া এবং ঝিনুক দেখতে পাবেন। এটি একটি নিরবচ্ছিন্ন সৈকত হওয়ায় সমুদ্রের প্রাণীরা এখানে স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়াতে পারে। এই সংক্রান্ত একটি পূণাঙ্গ ভিডিও নিচের লিংক থেকে দেখে আসতে পারেন।
শাহপরীর দ্বীপঃ
শাপলাপুর সমুদ্র সৈকত থেকে শাহপরীর দ্বীপের দূরত্ব ৪০ কিলোমিটার। শাহপরীর দ্বীপটি সম্পূর্ণ সমুদ্রতীর ঘেষে বেড়ে উঠা একটি দ্বীপ। এই দ্বীপ ভ্রমণ অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি পূণাঙ্গ ভিডিও নিচের লিংক থেকে দেখে আসতে পারেন।
ভিডিওঃ চমৎকার শাহপরীর দ্বীপ
তাছাড়াও যেকোন ভ্রমণ অভিজ্ঞতা পেতে চাইলে কমেন্টস করুন।
________________________________________________________________________________________________________
লেখাটি ভালো লাগলে কমেন্ট করতে পারেন এবং এইরকম গোছানো নতুন নতুন ভ্রমণ অভিজ্ঞতা পেতে চাইলে আমাদের YouTube চ্যানেল- Learning and Traveling ক্লিক করে Subscribe করতে পারেন। কোন পরামর্শ থাকলে কমেন্টে জানাতে পারেন। ধন্যবাদ সবাইকে।
লেখাটি ভালো লাগলে কমেন্ট করতে পারেন এবং এইরকম গোছানো নতুন নতুন ভ্রমণ অভিজ্ঞতা পেতে চাইলে আমাদের YouTube চ্যানেল- Learning and Traveling ক্লিক করে Subscribe করতে পারেন। কোন পরামর্শ থাকলে কমেন্টে জানাতে পারেন। ধন্যবাদ সবাইকে।
No comments