নর্থ সিকিম ভ্রমণ করুন অল্প খরচে এবং সহজে
আসসালামু আলাইকুম।
আশা করি সবাই ভালো আছেন! আমরা আছি সিকিম সিরিজের ৩য় পর্বে। আজকে আপনাদের সাথে শেয়ার করবো নর্থ সিকিমের সৌন্দর্য নিয়ে। আমরা কিভাবে গ্যাংটক থেকে নর্থ সিকিম আসলাম, কত খরচ পড়লো, কি কি দেখলাম, কতদিন ছিলাম ইত্যাদি। বিশেষ করে এই পর্বে আলোচনা করবো ভারতের সুইজারল্যান্ডখ্যাত কাটাও এর সৌন্দর্য নিয়ে।
ভিডিওঃ কাটাও, নর্থ সিকিমসিকিম সিরিজের ১ম ও ২য় পর্বে আলোচনা করেছি কিভাবে ঢাকা থেকে গ্যাংটক পৌছেছি এবং গ্যাংটক থেকে একদিনে ছাঙ্গুলেক ভ্রমণ করেছি। যারা সিকিম সিরিজের ১ম ও ২য় পর্ব মিস করেছেন, চাইলে নিচের লিংক থেকে ১ম ও ২য় পর্বের বিস্তারিত দেখে আসতে পারেন। অনুরোধ থাকবে লেখাটি ভালো লাগলে শেয়ার করার জন্য এবং আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইভ করার জন্য। সাবস্ক্রাইভ লিংক- Learning and Traveling। চাইলে প্রয়োজনীয় তথ্যের জন্য কমেন্টসও করতে পারেন। তাহলে পড়তে থাকুন, সিকিম সিরিজের ৩য় পর্ব!
গ্যাংটক থেকে নর্থ সিকিমঃ
আগেই বলেছি এজেন্সি ব্যতীত সিকিম ভ্রমণ বেশ জটিল। যেহেতু আমরা এজেন্সির মাধ্যমে সিকিম ভ্রমণ করেছি, তাই তারাই আমাদের নর্থ সিকিম ট্যুরের গাড়ি রিজার্ভ, হোটেল বুকিং, এবং খাবারের ব্যবস্থা করেছিলেন। সিকিম সিরিজের ৩য় দিনে আমরা রওয়ানা দিয়েছিলাম নর্থ সিকিমের উদ্দেশ্যে সেখানে আমরা দুইদিন এক রাত থেকেছিলাম! যাওয়ার পথে ভিউ পয়েন্টস ছাড়াও পুরো একদিনে দেখেছি কাটাও, ইয়ামথাম ভ্যালি এবং বরফের রাজ্য খ্যাত লাচুং এর জিরো পয়েন্ট।
গ্যাংটক থেকে নর্থ সিকিম ভ্রমণে জনপ্রতি মোট খরচ হতে পারে ৩০০০-৩৫০০ রুপি। তবে এটি নির্ভর করবে কতদিনের ট্যুর প্লান করছেন সেটার উপর। সকাল ১০ টায় গ্যাংটক থেকে রওয়ানা দিলেও নর্থ সিকিম পৌছেছিলাম রাত ৯টায়। একেতো পাহাড়ি রাস্তা, পাশাপাশি পারমিশন এবং জ্যাম থাকায় আমাদের পৌছাতে প্রায় ২ ঘন্টারও বেশি সময় লেগেছিলো। নর্থ সিকিম ভ্রমণের ক্ষেত্রেও আপনাদের অনুমতির জন্য পাসপোর্ট ও ভিসার ফটোকপি, ছবি, সিকিম ভ্রমণের অনুমতিপত্রের প্রয়োজন হবে। সেগুলো কিভাবে পাবেন তা আগের ভিডিওতে আলোচনা করেছি।
ঐদিন রাতে হোটেলে পৌছে, রাতের খাবার শেষে আমরা সবাই ঘুমিয়েছি। উল্লেখ্য যে, নর্থ সিকিমে আপনি যে এজেন্সির মাধ্যমেই যাননা কেন, তারা আপনাকে দশ জনের একটা টিমে পাঠাবে।
কাটাও যা ভারতের সুইজারল্যান্ড খ্যাত স্থানঃ
খুব সকালে আমরা প্রথমেই ঘুরে দেখি "কাটাও" যা কিনা ভারতের সুইজারল্যান্ড খ্যাত স্থান। আমরা যেহেতু সামারে গিয়েছিলাম তাই "কাটাও" এ বরফ পাইনি তবে চমৎকার ওয়াটার ফলস দেখার পাশাপাশি পাহাড়ের চূড়ায় বরফের স্থূপ দেখেছি।
'কাটাও' মূলত নর্থ সিকিমের লাচুং এ অবস্থিত একটি দর্শনীয় স্থান। অপর দিকে লাচুং ভারতের নর্থ সিকিমের একটা অপরূপ গ্রাম যা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৯৬০০ ফিট উচ্চতায় অবস্থিত। এত সুন্দর, নিরালা ছবির মত পাহাড়ি গ্রাম সিকিম এ খুব কমই পাবেন।
লাচুং শহর থেকে কাটাও এর দূরত্ব মাত্র ২৪ কিলোমিটার। ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত "কাটাও" বরফে পরিপূর্ণ থাকে যা যেকোন পর্যটককে মুগ্ধ করবে। আমার ব্যক্তিগত পরামর্শ হলো জীবনে একবার হলেও সিকিম ঘুরতে আসুন। আল্লাহ তায়ালার অপরুপ এই সৌন্দর্য খালি চোখে না দেখলে বিশ্বাসই করবেননা, পৃথিবী কত সুন্দর।
পরামর্শঃ
নর্থ সিকিম ভ্রমণে অবশ্যই সাথে ভারী শীতের কাপড় নিবেন। বিশেষ করে, জ্যাকেটের পাশাপাশি নেক বেল্ট, হ্যান্ড গ্লাভস, কান টুপি, মাস্ক, পায়ের মোজা ইত্যাদি। প্রয়োজনে কর্পুর সাথে রাখবেন। সম্ভব হলে অবশ্যই পোর্টেবল অক্সিজেন মাস্ক নিয়ে যাবেন। মূলত নর্থ সিকিমের উচ্চতা বেশি হওয়ায় অধিকাংশ মানুষই সেখানে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভোগেন।
লেখাটি ভালো লাগলে অবশ্যই চ্যানেলটি শেয়ার করবেন। কথা হচ্ছে পরবর্তী আলোচনায়। সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। আল্লাহ্ হাফেজ।
Happy Travelling!
তাছাড়াও যেকোন ভ্রমণ অভিজ্ঞতা পেতে চাইলে কমেন্টস করুন।
________________________________________________________________________________________________________
লেখাটি ভালো লাগলে কমেন্ট করতে পারেন এবং এইরকম গোছানো নতুন নতুন ভ্রমণ অভিজ্ঞতা পেতে চাইলে আমাদের YouTube চ্যানেল- Learning and Traveling ক্লিক করে Subscribe করতে পারেন। কোন পরামর্শ থাকলে কমেন্টে জানাতে পারেন। ধন্যবাদ সবাইকে।
লেখাটি ভালো লাগলে কমেন্ট করতে পারেন এবং এইরকম গোছানো নতুন নতুন ভ্রমণ অভিজ্ঞতা পেতে চাইলে আমাদের YouTube চ্যানেল- Learning and Traveling ক্লিক করে Subscribe করতে পারেন। কোন পরামর্শ থাকলে কমেন্টে জানাতে পারেন। ধন্যবাদ সবাইকে।
No comments