বান্দরবান ডে ট্যুরের খুঁটিনাটি
লেখকঃ এডমিন, লার্নিং এন্ড ট্রাভেলিং গ্রুপ
তারিখঃ ১২ ডিসেম্বর, ২০২৪
ভ্রমণপিপাসু মানুষের কাছে ব্যস্ততা কোন বাধা নয়। চাইলে একদিনেই ঢাকা থেকে ঘুরে আসতে পারেন পাহাড়ি কন্যা খ্যাত বান্দরবান থেকে। অল্প সময় এবং খরচে পরিবার নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন বান্দরবান থেকে। নৈসর্গিক পাহাড়ি সৌন্দর্য আপনাকে মুগ্ধ করবে! এই ব্লগে আলোচনা করবো মাত্র একদিনে ঢাকা থেকে কিভাবে বান্দরবান শহর এবং এর আশেপাশে অবস্থিত জনপ্রিয় সব দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখবেন। খরচের বৃত্তান্ত আলোচনার শেষাংশে যুক্ত করছি।
বান্দরবান ডে ট্যুরের সকল অজানা তথ্য পেতে সম্পূর্ণ লেখাটি পড়ার জন্য অনুরোধ রইলো। লেখাটি তথ্যবহুল মনে হলে শেয়ার করে পাশে থাকার জন্য অনুরোধ রইলো। আমাদের ইউটিউব চ্যানেল থেকেও জানতে পারেন ভ্রমণ সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য ।
ঢাকা থেকে বান্দরবানঃ
ঢাকা থেকে বান্দরবানগামী অসংখ্য পরিবহন রয়েছে। ঢাকার ফকিরাপুল থেকে বান্দরবানের উদ্দেশ্যে আমরা রওয়ানা হয়েছিলাম মার্সা ননএসি গাড়িতে! টিকেট মূল্য মাত্র ৯০০ টাকা। ঢাকা- বান্দরবান রোডে নতুন সংযোজন হয়েছে জনপ্রিয় এই গাড়িটি যার সার্ভিস এক কথায় অসাধারণ। রাত এগারোটায় আমাদের যাত্রা শুরু হয় এবং সকাল ৭ টায় আমরা বান্দরবান শহরে পৌছায়।
সকালের নাস্তাঃ
বান্দরবান বাস টার্মিনাল পৌছে প্রথমেই আমরা গাড়ি রিজার্ভ করলাম সারাদিন ঘুরাঘুরির জন্য। যেহেতু আমরা মাত্র দু'জন ঘুরতে গিয়েছিলাম তাই সারাদিনের জন্য সিএনজি রিজার্ভ করলাম মাত্র ১২০০ টাকায়। উদ্দেশ্যে বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয় ভ্রমণ, মেগলা পর্যটন কেন্দ্র ভ্রমণ এবং দুপুরের খাবার শেষে নীলাচল ভ্রমণ। আপনারা ৫ এর অধিক হলে সারাদিনের জন্য চান্দের গাড়ি ভাড়া করতে পারেন। খরচ পড়বে ১৫০০-১৮০০ টাকা! তবে খরচের পরিমাণ নির্ভর করে আপনি কোথায় কোথায় ঘুরবেন তার উপর।
যাইহোক, আমরা সিএনজি ড্রাইভারের সাথে আলোচনা করে নিয়েছিলাম যাতে আমাদের সকালে এবং দুপুরে খাবারের জন্য বান্দরবান শহরে নিয়ে যায়। সে মোতাবেক আমরা প্রথমেই শহরে চলে যাই সকালের নাস্তা করার জন্য।
বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালঃ
নাস্তা শেষে প্রথমেই আমরা ঘুরতে যাই বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয়ে। বান্দরবানের সুয়ালক নামক স্থানে পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য আপনাকে মুগ্ধ করবেই। শহর থেকে এর দূরত্ব মাত্র ১৪ কিলোমিটার। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ এখনো পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় স্থায়ী ক্যাম্পাসে এখনো একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়নি।
এটি বাংলাদেশের প্রথম পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়টি বাংলাদেশ সরকার এবং বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) দ্বারা অনুমোদিত হয় ২০১৯ সালে। এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ শেষে আমরা চলে যাই মেঘলা পর্যটন কেন্দ্রে।
মেঘলা পর্যটন কমপ্লেক্সঃ
বান্দরবান শহর থেকে মাত্র ৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মেঘলা পর্যটন কমপ্লেক্স। উঁচু নিচু পাহাড় পরিবেষ্টিত কৃত্রিম লেককে ঘিরে সাজানো হয়েছে এই জায়গাটি যা মূলত বান্দরবান শহরের প্রবেশ পথে বান্দরবান-কেরাণীহাট সড়কের পাশে পার্বত্য জেলা পরিষদ সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত। কৃত্রিম লেক বেষ্ঠিত এই দর্শনীয় স্থানটি ভ্রমণপিপাসুদের আগ্রহের তালিকায় সবসময় স্থান পায়। চারদিকের ঘন সবুজ পাহাড়, লেকের স্বচ্ছ পানি ও অপূর্ব প্রকৃতিক সৌন্দর্য পর্যটকদেরকে দূর্নিবার আকর্ষনে কাছে টানে।
এই লেকের অন্যতম আকর্ষণ হলো লেকের উপর মনোমুগ্ধকর দুটি ঝুলন্ত ব্রিজ। এছাড়া চিত্তবিনোদনের জন্য আরো রয়েছে সাফারি পার্ক, শিশুপার্ক, চিড়িয়াখানা, উন্মুক্ত মঞ্চ, চা বাগান, ক্যাবল কার ও প্যাডেল বোট। এছাড়া পাহাড়ের চুঁড়ায় উঠে দেখতে পাবেন পাহাড়ীকন্যা বান্দরবানের নজরকাড়া প্রাকৃতিক দৃশ্য। উল্লেখ্য যে মেঘলা পর্যটন কমপ্লেক্সে প্রবেশ মূল্য মাত্র ২০ টাকা। তাহলে চলুন ঘুরে দেখি সম্পূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র।
নীলাচল বান্দরবানঃ
নীলাচল বাংলাদেশের বান্দরবান জেলায় অবস্থিত অন্যতম দর্শনীয় একটি স্থান। এটি বান্দরবান শহর থেকে প্রায় ছয় কিলোমিটার দূরে টাইগারপাড়ার পাহাড়চূড়ায় অবস্থিত। এখানে আসলে আপনি একই সাথে মেঘ ও সবুজের লোকচুরি দেখতে পাবেন।
২০০০ ফিট উচ্চতায় অবস্থিত নীলাচলকে বাংলার দার্জিলিং বলা হয়। মূলত বর্ষা, শরৎ এবং হেমন্ত—এই তিন ঋতুতে নীলাচল থেকে ছোঁয়া যায় মেঘ। তাছাড়াও নীলাচল থেকে সমগ্র বান্দরবান শহর একনজরে দেখা যায়। নীলাচলের প্রকৃত সৌন্দর্য উপভোগ করা যায় খুব সকালে যখন মেঘেরা খেলা করে! তবে সূর্যাস্তের পূর্বে বিকেল বেলায়ও নীলাচলের অপার সৌন্দর্য আপনাকে মুগ্ধ করবে।
নীলাচলে প্রবেশের ক্ষেত্রে প্রবেশ মূল্য মাত্র ৫০ টাকা। এটি খোলা থাকে সন্ধ্যা ৬.৩০ পর্যন্ত। এখানে চাইলে আপনি দুপুরের খাবার খেতে পারেন। পাশাপাশি পর্যটনকেন্দ্রের উপরে পেয়ে যাবেন পাহাড়ি সব ফল এবং কেনাকাটা করার সুযোগ।
টিপসঃ
আমরা প্রথমে বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয়, এবং তারপর মেঘলা পর্যটন কমপ্লেক্স ঘুরে দেখি। দুপুর ১২ টার মধ্যে এগুলো ঘুরে শেষ করি। তারপর দুপুরের খাবারের জন্য শহরে ফিরে আসি। খাবার শেষে ২টায় রওয়ানা হই নীলাচলের উদ্দেশ্যে। বিকাল ৫টা পর্যন্ত নীলাচল ঘুরে আবার শহরে ফিরে আসি। সন্ধ্যা ৮ টা পর্যন্ত কেনাকাটা করি এবং রাত নয়টার মধ্যে খাবার শেষে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হই। এবং আলহামদুলিল্লাহ্ পরদিন খুব ভোরে আমরা ঢাকা পৌছে যাই।
খরচের বিস্তারিত দেখে নিনঃ জনপ্রতি হিসাব
যাতায়াত - ৯০০×২= ১৮০০
খাবার- ৫০+২২০+১৫০=৪২০
সিএনজি- ৭০০ (জনপ্রতি)
সকল এন্ট্রি ফি- ২০+৫০=৭০
মোট= ২,৯৯০//
তবে পার্টিসিপেন্টস এর সংখ্যা বাড়লে খরচ আরও কমে আসবে।
বিঃদ্র- গাড়ির পার্কিং এর খরচ ড্রাইভার বহন করেছেন।
রাত্রি যাপন করতে চাইলে হোটেল ভাড়া করতে হবে। এক্ষেত্রে হোটেলের মান অনুযায়ী সর্বনিম্ন ৭০০ থেকে সিঙ্গেল রুম হোটেল ভাড়া পাওয়া যাবে। তবে সিজন ভেদে রুমের ভাড়া কমতে বা বাড়তে পারে। বান্দরবান শহরের আশেপাশে অসংখ্য হোটেল পেয়ে যাবেন।
পরামর্শঃ
হোটেল, সিএনজি বা চাঁদের গাড়ি অগ্রিম বুকিং না করাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। একটু কষ্ট হলেও এতে আপনার অনেক টাকা বেচে যাবে। পুরো আলোচনায় আমাদের সাথে থাকার জন্য আপনাদের অসংখ্য ধন্যবাদ। আলোচনাটি ভালো লাগলে লেখাটি শেয়ারকরতে অনুরোধ থাকবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় তথ্যের জন্য কমেন্টস করতে পারেন।
আল্লাহ্ হাফেজ। সবাই সুস্থ ও ভালো থাকুন।
Happy Travelling!
তাছাড়াও যেকোন ভ্রমণ অভিজ্ঞতা পেতে চাইলে কমেন্টস করুন।
________________________________________________________________________________________________________
লেখাটি ভালো লাগলে কমেন্ট করতে পারেন এবং এইরকম গোছানো নতুন নতুন ভ্রমণ অভিজ্ঞতা পেতে চাইলে আমাদের YouTube চ্যানেল- Learning and Traveling ক্লিক করে Subscribe করতে পারেন। কোন পরামর্শ থাকলে কমেন্টে জানাতে পারেন। ধন্যবাদ সবাইকে।
লেখাটি ভালো লাগলে কমেন্ট করতে পারেন এবং এইরকম গোছানো নতুন নতুন ভ্রমণ অভিজ্ঞতা পেতে চাইলে আমাদের YouTube চ্যানেল- Learning and Traveling ক্লিক করে Subscribe করতে পারেন। কোন পরামর্শ থাকলে কমেন্টে জানাতে পারেন। ধন্যবাদ সবাইকে।
No comments