নীলগিরি ঘুরে দেখুন একদিনে


লেখকঃ এডমিন, লার্নিং এন্ড ট্রাভেলিং গ্রুপ
তারিখঃ ২৭ জানুয়ারি, ২০২৫

আপনারা চাইলে একদিনেই নীলগিরি, চিম্বুক পাহাড়, শৈল প্রপাত, টাইটানিক ভিউ পয়েন্ট, ডাবল হ্যান্ড ভিউ পয়েন্টসহ পাহাড়ি গ্রাম ঘুরে দেখতে পারেন। কিভাবে মাত্র ১ দিনে চমৎকার এই স্থানগুলো ঘুরে দেখবেন, চলুন সেগুলো জেনে নেই।
                                                         
                                                        ভিডিওঃ নীলগিরি, বান্দরবান

লেখাটি ভালো লাগলে শেয়ার করবেন এবং আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি (লিংক ভিডিউতে) সাবস্ক্রাইভ করার জন্য অনুরোধ থাকবে!

ঢাকা টু নীলগিরিঃ
ঢাকা থেকে নীলগিরি ভ্রমণ করতে চাইলে আপনাদের প্রথমে বান্দরবান আসতে হবে। এক্ষেত্রে ঢাকা থেকে সরাসরি মার্সা পরিবহনের নন এসি গাড়ি করে মাত্র ৯০০ টাকায় আপনি পৌছাতে পারেন বান্দরবান শহরে। আমরা এসেছিলাম ঢাকার ফকিরাপুল থেকে।

বান্দরবান শহর - নীলগিরিঃ
বান্দরবান শহর থেকে নীলগিরি যাওয়ার জন্য আপনাদের চান্দের গাড়ি রিজার্ভ করতে হবে। চান্দের গাড়ির ভাড়া পড়বে ৪৫০০-৫০০০ টাকা। দরকষাকষি করে নিবেন। চান্দের গাড়িতে সর্বোচ্চ ১২ জন বসতে পারবেন। অনেকেই ঢাকা থেকে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে বান্দরবান যাওয়ার পরিকল্পনা করেন, এটি সবচেয়ে বড় বোকামি এবং লাইফ রিক্স! কারণ পাহাড়ি রাস্তায় অভিজ্ঞ ড্রাইভার নিয়েই ভ্রমণ করা উচিত। চলুন নীলগিরির সম্পর্কে কিছু অজানা তথ্য জেনে নেই।

নীলগিরিঃ
বাংলার দার্জিলিং খ্যাত নীলগিরি এক কথায় চমৎকার। দৃষ্টি জুড়ে অসংখ্য সবুজ পাহাড় আর মেঘের লুকোচুরি আপনাকে মুগ্ধ করবেই। বান্দরবানের উচু পাহাড় গুলোর মধ্যে অন্যতম নীলগিরি পর্বত সমুদ্র পৃষ্ট থেকে ৩৫০০ ফিট উচ্চতায় অবস্থিত! মূলত এটি বান্দরের থানচি থানার অন্তর্গত একটি জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থান। যার অবস্থান বান্দরবান জেলা সদর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে। প্রকৃতির সুনিপুণ মায়ায় বেড়ে ওঠা নীলগিরির চমৎকার দর্শনীয় স্থানগুলো পর্যটকদের জন্য আরও আকর্ষণীয় ও নিরাপদ করার লক্ষ্যে প্রতিনিয়তই কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

নীলগিরির চূড়া থেকে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পাহাড় কেওক্রাডং, প্রাকৃতিক আশ্চর্য বগালেক, কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকত, চট্টগ্রাম সমুদ্র সৈকতসহ চোখ জুড়ানো পাহাড়ের সারিও দেখতে পাওয়া যায়।

নীলগিরির কাছাকাছি রয়েছে বেশ কয়েকটি ম্রো উপজাতীয় গ্রাম। এর একদম কাছে কাপ্রু পাড়া যেখান থেকে আপনি সহজেই ম্রো আদিবাসী সম্পর্কে জানতে পারবেন। নীলগিরি যাওয়ার পথে আপনি দেখে যেতে পারেন বান্দরবানের অপার সৌন্দর্যময় শৈলপ্রপাত। এখানে আদিবাসী বম তরুণীরা আপনাকে স্বাগত জানাবে। এখান থেকে কিনে নিতে পারেন আদিবাসীদের হাতের তৈরি নানা পণ্য।

নীলগিরির পূর্ব পাশের সৌন্দর্যঃ
নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্রের সবচেয়ে সুন্দর ভিউ পয়েন্টে রয়েছে পূ্র্ব পাশে যা মূলত পর্যটন কেন্দ্রের উপরে পূর্বদিকে অবস্থিত। এখান থেকে পাহাড়ের সবুজ এবং মেঘের লুকোচুরি দেখতে পারবেন অনায়াসে। তবে পরামর্শ হলো যত সকালে আসতে পারবেন, ততই মেঘ দেখতে পাবেন। বেলা বাড়ার সাথে সাথে পাহাড়ের সবুজ সৌন্দর্য থাকলেও মেঘের আর দেখা মিলবেনা।

নীলগিরির উত্তর পাশের সৌন্দর্যঃ
নীলগিরির উত্তর পাশটাতে রয়েছে চমৎকার একটি হেলিপ্যাড। অনেকেই হ্যালিপ্যাডে যেতে চায়না। কিন্তু আমি বলবো হ্যালিপ্যাডে না গেলে নীলগিরি ভ্রমণ আপনার অপূর্ণ থেকে যাবে। কেননা, হ্যালিপ্যাড থেকেই পুরো নীলগিরির পাহাড়ের সৌন্দর্য দেখতে পাবেন।

টিকেট মূল্য ও পার্কিং খরচঃ
নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্রের জনপ্রতি প্রবেশ মূল্য মাত্র ৫০ টাকা। তবে গাড়ি পার্কিং করতে চাইলে ৩০০-৪০০ টাকা লাগবে। চান্দের গাড়ির ড্রাইভারের সাথে এই খরচের বিষয় আলোচনা করে নিবেন, তাহলে আর আপনাকে ঝামেলা পোহাতে হবেনা।

দুপুরের খাবারঃ
নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্রের উপরেই দুপুরের খাবার ব্যবস্থা রয়েছে। আপনারা চাইলে ২০০-৩০০ টাকার মধ্যে দুপুরের খাবার খেয়ে নিতে পারেন।

নীলগিরির রিসোর্ট এবং হোটেলঃ
নীলগিরিতে থাকার জন্য পাহাড়ের চূড়ায় রয়েছে সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত ৬ টি কটেজ। সবগুলো কটেজই মূলত ফ্যামিলির জন্য। সিঙ্গেল কোন রুম নেই এগুলতে। তাই খরচও একটু বেশি। এসব কটেজে থাকার জন্য রুম ভাড়া পড়বে ৪০০০ থেকে ১০০০০ টাকা। সিজনে দেড় থেকে দুই মাস আগে বুকিং দিতে হবে। মূলত সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় এসব রিসোর্টে থাকলে হলে তাদের সাথেই যোগাযোগ করে বুকিং করতে হবে। 

তবে বেশিরভাগ পর্যটকই এত ঝামেলায় না গিয়ে নীলগিরি ঘুরে সন্ধ্যার মধ্যে আবার বান্দরবান শহরে ফিরে আসেন। বান্দরবানে থাকার জন্য রয়েছে বিভিন্ন মানের অনেকগুলো হোটেল। রয়েছে কটেজ ও রিসোর্ট। এর মধ্যে কয়েকটি হোটেল হলো- হোটেল হিল ভিউ, পর্যটন মোটেল, হোটেল নাইট হ্যাভেন, হোটেল প্লাজা, রিভার ভিউ ইত্যাদি। ক্ষেত্র বিশেষে রুমের ধরন অনুযায়ী এগুলোর ভাড়া পড়বে সর্বনিম্ন ১৫০০ থেকে ৪০০০ টাকা।

পরামর্শঃ
হোটেল, সিএনজি বা চাঁদের গাড়ি অগ্রিম বুকিং না করাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। একটু কষ্ট হলেও এতে আপনার অনেক টাকা বেচে যাবে। আজ এখানেই শেষ করছি। পুরো আলোচনায় আমাদের সাথে থাকার জন্য আপনাদের অসংখ্য ধন্যবাদ। ভালো লাগলে শেয়ার করবেন এবং চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইভ করতে অনুরোধ থাকবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় তথ্যের জন্য কমেন্টস করতে পারেন।

আল্লাহ্ হাফেজ। সবাই সুস্থ ও ভালো থাকুন।

Happy Travelling!
তাছাড়াও যেকোন ভ্রমণ অভিজ্ঞতা পেতে চাইলে কমেন্টস করুন।  
________________________________________________________________________________________________________
লেখাটি ভালো লাগলে কমেন্ট করতে পারেন এবং এইরকম গোছানো নতুন নতুন ভ্রমণ অভিজ্ঞতা পেতে চাইলে আমাদের YouTube চ্যানেল- 
Learning and Traveling ক্লিক করে Subscribe করতে পারেন। কোন পরামর্শ থাকলে কমেন্টে জানাতে পারেন। ধন্যবাদ সবাইকে।

No comments

Theme images by compassandcamera. Powered by Blogger.